শেয়ারবাজার মামলায় সাকিবকে তদন্তে নতুন সময়সীমা দিল আদালত

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৪:৫৬ পিএম

শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া আলোচিত মামলায় তদন্তের গতি আনতে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছে আদালত। বাংলাদেশ ক্রিকেটের তারকাখ্যাত অলরাউন্ডার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সর্বশেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩ মার্চ। 

বুধবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ নির্দেশ দেন।

এই মামলায় সাকিবসহ মোট ১৫ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করছে দুদক। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় সংস্থাটি আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানায়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী চার মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

দুদক সূত্র জানায়, তদন্তের বিভিন্ন ধাপ শেষ হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করা এখনও বাকি। সেগুলো সম্পন্ন করতেই বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখন সংস্থাটির হাতে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় তদন্তের গতি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই দিনে দুদক মূল আসামি সাকিব আল হাসানকে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে নির্দেশ দেয়। অভিযোগের বিষয়ে তার ব্যাখ্যা ও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে জানতে চাইবে কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তিনি কবে উপস্থিত হবেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

সাকিবের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা ও ব্যক্তিগত সূচি মিলিয়ে তার দেশে ফেরার সময় এখনও স্থির নয়। অন্যদিকে দুদক বলছে, দেশের বাইরে থাকলেও তদন্তের অংশ হিসেবে তার বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগে শুধু সাকিবই নন তার মা শিরিন আক্তারসহ ১৫ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন, সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির এবং তানভীর নিজাম।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সমবায় সমিতির নামে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ দেখিয়ে শেয়ারবাজারে অর্থ লোপাট, কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-বাড়ানো এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা অবৈধভাবে অন্যত্র সরানোর অভিযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু ব্যক্তি যৌথভাবে সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে সন্দেহ করছে তদন্ত সংস্থা।

গত ১৭ মে দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। তদন্ত শুরু হওয়ার পরই সাকিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত (১৬ জুন)। এরপর তদন্তের বিভিন্ন পর্যায় সম্পন্ন হলেও অভিযোগসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

দুদক জানাচ্ছে, মামলার পরিধি বড় এবং এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক লেনদেন যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়ছে। তাই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ।

দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফলতম খেলোয়াড় সাকিবের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলার অগ্রগতি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই আশা করছেন, তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে। তবে আদালতে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করায় মামলার গতি কিছুটা ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুদক তদন্ত শেষ করতে পারে কি না। কারণ এই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করবে মামলায় অভিযোগ গঠন হবে কি না বা কার বিরুদ্ধে কতটুকু আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আদালতের এক কর্মকর্তা জানান, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত চায় নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। এজন্যই সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সম্পন্ন হলে আদালতে রিপোর্ট জমা পড়বে। এরপর বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হবে যা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত দেবে সাকিব ও অন্য আসামিদের ভবিষ্যৎ।

জেএইচআর