আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, দেশের দীর্ঘ সময়ের শাসনকালে র্যাবের টিএফআই সেলে বিরোধী মতাদর্শের মানুষদের গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে চলমান মানবতাবিরোধী বিচার দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়।
বুধবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে গুম মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বিচারকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, চলমান বিচার সামরিক শৃঙ্খলার বাইরে র্যাবে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।
তিনি আরও বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান। আসামিরা বিচারের আগে ইনোসেন্ট ধরে রাখা হবে, কিন্তু অন্য কোনো বিশেষ সুবিধা পাবেন না। আদালত এই বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে।
এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি শেষ হয়েছে। তবে আসামিপক্ষের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানি ১৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।
এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা ১০ জন সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ছিলেন- র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন), র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
পলাতক আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, র্যাবের সাবেক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং অন্যান্যরা।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, র্যাবের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ হিসেবে আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসামিপক্ষের ভার্চুয়াল শুনানির আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছেন, কারণ এটি মামলার ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে পলাতক আসামিদের হাজির করার জন্য দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে। প্রসিকিউশন অভিযোগ দাখিল করেছেন ৮ অক্টোবর, এবং আদালত তা গ্রহণ করেছেন।
চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা বিশেষ সুবিধা অনুমোদিত নয়। আসামিরা আইনের সম্মানিত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য অপেক্ষা করবেন এবং ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত হবে।
জেএইচআর