অস্বাভাবিক জামিন নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে আইন উপদেষ্টার উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৭:২৭ পিএম

উচ্চ আদালত থেকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অস্বাভাবিকভাবে জামিন পাওয়ার ঘটনায় প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের কাছে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। 

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সাথে বিদায়ী সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

আসিফ নজরুল বলেন, “আজকে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের শেষ কর্মদিবস ছিল। জাতির এক অত্যন্ত সন্ধিক্ষণে তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণে বিচার বিভাগীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। আমি তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছিলাম।”

অস্বাভাবিক জামিন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, হাইকোর্টের কোনো কোনো বেঞ্চ থেকে যেভাবে জামিন দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আমি আগেও আমার উদ্বেগের কথা প্রধান বিচারপতিকে জানিয়েছিলাম এবং আজকেও তা ব্যক্ত করেছি। 

তিনি জানান, ইতিপূর্বে একটি বেঞ্চ থেকে মাত্র চার ঘণ্টায় আটশ জামিন দেওয়ার ঘটনায় প্রধান বিচারপতি সংশ্লিষ্টদের ডেকে পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। এরপর জামিনের প্রকোপ কিছুটা কমলেও বর্তমানে তা আবার অব্যাহত রয়েছে।

আইন উপদেষ্টা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “একজন ভয়ঙ্কর ব্যক্তি জামিন পেয়ে যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নায়কদের ওপর হামলা করেন, তবে আমরা অত্যন্ত শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন বোধ করি। আইন মন্ত্রণালয়ের হাইকোর্টের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং থাকার কথাও না। হাইকোর্টের অভিভাবক হলেন প্রধান বিচারপতি।”

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার হুমকির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “পলাতক ফ্যাসিস্ট নেত্রী যখন নিয়মিত হত্যার হুমকি দিচ্ছেন, তখন তার অনুসারীরা জামিন পাওয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। সম্ভাব্য খুনিকে জামিন দিলে সেই খুনের দায় বিচারকের ওপর পড়ে কি না, তা তাঁদের বিবেচনা করা উচিত। সাধারণ অপরাধে জামিন পাওয়া আইনি অধিকার, কিন্তু যিনি মুক্তি পেয়ে খুনের কারণ হতে পারেন, তিনি জামিন পেতে পারেন না।”

অধ্যাপক আসিফ নজরুল আরও জানান, নতুন প্রধান বিচারপতির সাথে প্রথম বৈঠকেই তিনি এই অস্বাভাবিক জামিন বন্ধের বিষয়ে জোর দেবেন। বিদায়ী প্রধান বিচারপতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সৎ ও যোগ্য একজন প্রধান বিচারপতিকে আমরা পেয়েছিলাম। তাঁর অবসরের পরও বিচার বিভাগের সংস্কার ধরে রাখতে তাঁর পরামর্শ নেওয়া হবে।

ইএইচ