বিচার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত ও গতিশীল করার প্রত্যয় প্রধান বিচারপতির

বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০২:১২ পিএম

বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টে আয়োজিত তাঁর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং আগামীর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি বিচার বিভাগের মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন।

মামলা জট নিরসনে গণ-সহযোগিতার আহ্বান

প্রধান বিচারপতি তাঁর ভাষণে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকায় সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এই স্থবিরতা কাটাতে তিনি কেবল বিচারকদের ওপর নির্ভর না করে আইনজীবীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, মামলা জট কমানো একা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য আইনজীবী, আদালত প্রশাসন এবং বিচারক—সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

বিচার বিভাগে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার অঙ্গীকার করে প্রধান বিচারপতি জানান, বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনৈতিক লেনদেন বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তিনি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে বিচার বিভাগের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিন্ডিকেট মুক্ত বিচার বিভাগ ও শুদ্ধি অভিযান

অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ এক জোরালো বক্তব্য পেশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচার বিভাগের একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ে বন্দি ছিল এবং সুবিচারের নামে অবিচার করা হয়েছিল। তিনি প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিচার বিভাগকে একটি নির্দিষ্ট চক্র বা সিন্ডিকেট থেকে মুক্ত করতে আপনার নেতৃত্বে দ্রুত শুদ্ধি অভিযান চালানো প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

নিম্ন আদালতের জামিন বাণিজ্য ও পুলিশের ভূমিকা

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন নিম্ন আদালতের অস্থিরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নিম্ন আদালতে যে 'জামিন বাণিজ্য' চলছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া তিনি অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের দেওয়া ‘মিথ্যা চার্জশিট’ বা গায়েবি মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

আগামীর প্রত্যাশা

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, নতুন প্রধান বিচারপতির সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘশ্বাস মোচন করা এবং একটি স্বচ্ছ বিচার বিভাগ গড়ে তোলার যে প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়নে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি এবং সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। উপস্থিত বিজ্ঞ আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেন যে, জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ আবার তাঁর হারানো গৌরব ফিরে পাবে।

এএন