প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বিচারক, আইনজীবীসহ সকলের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আসুন দেশকে বসবাসের উত্তম স্থানে পরিণত করি। যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে আসতে পারে। এছাড়া বিচার বিভাগরে সামগ্রিক উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রোববার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাসে (প্রধান বিচারপতির এজলাস) প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
গত ২৪ ডিসেম্বর দেশের ২৬ তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। এরপর ২৮ ডিসেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেন। রবিবার ছিল এজলাসে তার প্রথম কর্মদিবস। এদিন প্রথা অনুযায়ী, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় এজলাসে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকেরাও উপস্থিত ছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষে সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমি অবশ্যই আশা করি, আমার সম্মানিত পূর্বসূরি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের প্রণীত রোডম্যাপের ওপর ভিত্তি করে, প্রয়োজন অনুসারে কিছু পরিবর্তন ও পরিমার্জনসহ কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।’
প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে বিচারঙ্গনে আগত বিচারক, আইনজীবী ও বিপুল সংখ্যক বিচারপ্রার্থীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। এছাড়া আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্ট বার ও জেলা বারকে পরামর্শ দেন তিনি।
আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই মহান পেশার মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষা করার জন্য আমি সকল আইনজীবীর প্রতি আহ্বান জানাই।’ আদালত প্রাঙ্গণের ভেতরে ও বাইরে পেশাগত আচরণের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ষোড়শের বিধি ৩, উপবিধি (৪) এবং অ্যাডভোকেটদের আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালার অধ্যায় ১-এর বিধি ২, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল আদেশ ও বিধিমালা, ১৯৭২-এর বিধান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, উল্লিখিত বিধানসমূহ নিয়মিতভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।’
বিচারক, আইনজীবীসহ সকলের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এই দেশকে বসবাসের জন্য একটি উত্তম স্থানে পরিণত করতে চেষ্টা করি যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শান্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে এগিয়ে আসতে পারে।’
প্রধান বিচারপতিকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ বলেন, ‘বিচার বিভাগে সবচে বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি। দুর্নীতির এই বিষবাষ্প বিচারকার্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আক্রান্ত করেছে। জাতি প্রত্যাশা করে বিচার বিভাগ সিন্ডিকেট মুক্ত হোক, দুর্নীতিমুক্ত হোক।’ প্রধান বিচারপতিকে শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সকল স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করার আহবান জানান তিনি।
সংবর্ধনায় সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বিগত ১৫ বছর দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করে বিচার বিভাগকে জনগণের মুখোমুখি করা হয়েছিল। বিচার বিভাগে নানাভাবে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট কয়েম করা হয়েছিল। বিচারঙ্গণে দুর্নীতি যেই-ই করুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি।
জেএইচআর