আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রার্থী যাচাই বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের ধাক্কা খেলো জাতীয় পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। এই দুই দলের প্রার্থীদের প্রার্থিতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এই রুলের ফলে দল দুটির নির্বাচনী দৌড়ে টিকে থাকা নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
রোববার রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
আদালত মামলার বিবাদীদের, যাদের মধ্যে আইন সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব রয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ এই রিটটি দায়ের করেন। রিটে মূলত ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে কাজ করা দলগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার আইনি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। গত ৭ জানুয়ারি শুনানির পর আদালত আজ ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিষয়টি মুলতবি রেখেছিলেন।
রিটে যে দলগুলোর প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেগুলো হলো জাতীয় পার্টি জিএম কাদের অংশ, যারা ইতিমধ্যে ২৪৩টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। এই জোটে রয়েছে জাতীয় পার্টির অন্য অংশ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নেতৃত্বাধীন এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জেপি। তারা ১১৯টি আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির শুনানিতে দাবি করেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করা দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী।
রিটে উল্লেখ করা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা ছাত্র জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বা ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিল, তাদের জনম্যান্ডেট বা নৈতিক অধিকার নেই নতুন বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মোট ২,৫৮২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে ১,৮৪২ জন প্রার্থী টিকে আছেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের বিশাল সংখ্যক প্রার্থীর ভাগ্য এখন হাইকোর্টের এই রুলের ওপর ঝুলে গেল। যদি দুই সপ্তাহ পর বিবাদীদের জবাবে আদালত সন্তুষ্ট না হন, তবে বড় সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে, তারা আইনিভাবেই এই রুলের মোকাবিলা করবেন। তাদের দাবি, তারা একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাদের সাংবিধানিক অধিকার।
অন্যদিকে, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জোটের নেতারা এই রুলকে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। রিটকারী বনাম জাতীয় পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের এই মামলায় দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে হবে এবং স্বৈরাচারের সহযোগী দলগুলোর প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিলের মূল দাবিটি এখন আদালতের বিচারাধীন।
জেএইচআর