দেশব্যাপী বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল সিস্টেম চালুর নির্দেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার রায়ের অনুলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিট আবেদনকারী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
আদালতের নির্দেশনা রায়ে সরকারকে সারাদেশে একটি কেন্দ্রীয়, সার্চযোগ্য এবং 'টেম্পার-প্রুফ' (পরিবর্তন অযোগ্য) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও তাৎক্ষণিক যাচাই করা সম্ভব হবে।
আদালত সরকারকে তিনটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন:
পর্যবেক্ষণ ও হতাশা বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, দেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন এখনও সনাতন বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হওয়ায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ থাকছে। পূর্ববর্তী বিয়ে গোপন রাখা, রেকর্ড জালিয়াতি এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের কারণে বিশেষ করে নারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, আইসিটি নীতি ২০১৮ ও ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ভিশনে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার কথা থাকলেও সরকার এখনো কার্যকর কেন্দ্রীয় ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু না করা অত্যন্ত হতাশাজনক।
যুগান্তকারী পদক্ষেপ রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, এই রায় পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারীর সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ ও প্রতারণা রোধে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে একাধিক বিয়ে গোপন রাখা বা তালাকের প্রমাণ সংক্রান্ত জটিলতা কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর আদালত এই রায় ঘোষণা করেছিলেন, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আজ প্রকাশিত হলো।
জেএইচআর