সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কাল শুক্রবারই (৩০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দোহাই দিয়ে এই পরীক্ষা স্থগিতের যে দাবি উঠেছিল, উচ্চ আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে আগামীকাল সকাল ১০টায় পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনটি খারিজের এই আদেশ দেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের এই ডামাডোলের মধ্যে বিসিএসের মতো বড় পরীক্ষা আয়োজন করা পরীক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর হতে পারে—এমন যুক্তি দেখিয়ে গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পরীক্ষার্থীদের একটি অংশের পক্ষে অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব রিট আবেদনটি করেন।
তবে আদালত শুনানি শেষে জানান, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং তারা পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নির্বাচনের ডামাডোল থাকলেও পরীক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে না পাওয়ায় রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়। এর ফলে পরীক্ষা আয়োজনে আর কোনো আইনি জটিলতা রইল না।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের ওয়েবসাইটে আগেই আসন বিন্যাস ও হল সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু নিয়মাবলীর মধ্যে আছে, নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ফোন বা কোনো ধরণের ডিজিটাল ঘড়ি নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কেবল প্রবেশপত্র এবং কালো কালির বলপয়েন্ট কলম থাকতে পারবে।
উল্লেখ্য যে, এবারের বিসিএস পরীক্ষাটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দেশজুড়ে সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বড় অংশ নির্বাচনী ডিউটিতে ব্যস্ত থাকলেও পিএসসি জানিয়েছে, পরীক্ষার হলগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়া কয়েক লাখ পরীক্ষার্থী। তাদের মতে, পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে সেশন জট ও বয়সজনিত সমস্যার সৃষ্টি হতো। তবে সড়ক ও পরিবহনের চাপ এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে যারা চিন্তিত ছিলেন, তারা কিছুটা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
হাইকোর্টের এই আদেশের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, জাতীয় জীবনের বড় আয়োজনগুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিয়োগ প্রক্রিয়াও সচল রাখতে চায় প্রশাসন। কালকের এই মেগা পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া এখন পিএসসি এবং সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এএন