চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে আজ থেকে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হচ্ছে। প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি আজ সাক্ষ্যগ্রহণও হতে পারে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আইন অনুযায়ী আজ প্রসিকিউশন পক্ষ সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। এরপর প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কাজ এগিয়ে যাবে। তবে এই মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি এবং আসামিদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চলবে।
পলাতক অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ১৮ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হওয়ার পর ৮ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
আদালত গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সহিংসতা উসকে দিয়েছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখায় দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।
জেএইচআর