রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ৩০ আসামির রায় আজ ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জন আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রিজনভ্যানে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।
হাজির ছয়জন আসামি হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।
মামলার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ২০২৫ সালের ২৪ জুন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই দিন ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ফরমাল চার্জ দাখিলের পর আসামি ও প্রসিকিউশন পক্ষের আইনজীবীরা শুনানি করেন। ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২৭ আগস্ট মামলার সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়; মামলার প্রথম সাক্ষী ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মুকুল হোসেন।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এ সময়ে মোট ২৫ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাক্ষী ছিলেন জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তার সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুরু হয়, যা ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলেছে। এরপর রায়ের জন্য অপেক্ষা রাখা হয়। ৫ মার্চ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং আজ আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।
রায়ের দিন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এলাকার আশপাশে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এএন