জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের বীরত্ব ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি ঐতিহাসিক রায় ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। রায় পড়ার প্রাক্কালে ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেছেন, যে পুলিশ সদস্যদের সামনে আবু সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা সেদিন ‘অমানুষে’ পরিণত হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায়ের শুরুতেই এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে নির্ভীকভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, তার সামনে যারা রয়েছে তারা মানুষ, তাই তার কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু তিনি তখন বুঝতে পারেননি, সেই মানুষগুলোই অমানুষে রূপ নিয়েছে।’
এদিন দুপুর প্রায় সোয়া ১২টার দিকে মামলার সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর রায়টি পাঠ করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার রয়েছেন, আর বাকি ২৪ জন পলাতক।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া বাকি ২৫ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
অন্যদিকে, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।
এএন