ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র বিক্রেতা ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং’র মালিক মাজেদুল হক ওরফে হেলালকে তিনদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর আগে হেলালকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়। মাইক্রো অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে অস্ত্রটির সিরিয়াল নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ২০১৭ সালে আমদানি করা এই পিস্তলটি প্রথমে পুরানা পল্টনের একটি অস্ত্রের দোকান থেকে চকবাজারের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেটি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোংয়ের কাছে যায়।
পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক হেলাল তার অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই অস্ত্রটি ক্রয় করেছিলেন। লাইসেন্সটি মূলত তার বাবা হামিদুল হকের নামে থাকলেও ২০০০ সালে তা নিজের নামে নেন হেলাল। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছিল, এরপর আর তা হালনাগাদ করা হয়নি।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, হেলালের কাছ থেকে কীভাবে অস্ত্রটি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের হাতে পৌঁছায়, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। এ কারণে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পথে রওনা হন শরীফ ওসমান হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনার পরদিন, ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। শুরুতে হত্যাচেষ্টার মামলা হিসেবে দায়ের হলেও হাদির মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপ নেয়। মামলায় একাধিক ধারায় ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর আঘাত এবং সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এম জি