ওসমান হাদি হত্যায় অস্ত্র বিক্রেতা হেলালের দোষ স্বীকার 

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। মামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের কথিত বিক্রেতা মাজেদুল হক ওরফে হেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে হেলালকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম আবেদন মঞ্জুর করে হেলালের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল আদালত হেলালকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস এন্ড কোং’ নামের একটি অস্ত্রের দোকানের মালিক। ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের চকবাজার থানার হারেছ শাহ মাজার লেন এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন শরীফ ওসমান হাদি। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের সময় রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৪ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যা পরে তার মৃত্যুর পর ৩০২ ধারায় হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত তা গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেন।

এম জি