ফুটপাত দখলমুক্তে নোটিশ, হকার কার্ড বাতিলের দাবি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রাস্তা, ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং বেআইনিভাবে বিতরণ করা হকার কার্ড বাতিলের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাদিম মাহমুদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত, রাস্তার পাশ এবং পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত স্থান হকার, অস্থায়ী দোকান, রেস্তোরাঁ, হোটেল, টেবিল-চেয়ার, মোবাইল মার্কেটসহ নানা বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দখল হয়ে আছে। এর ফলে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেককে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনা, ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ফুটপাত ও রাস্তা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত। সেখানে কোনো ধরনের দখল, স্থাপনা নির্মাণ বা বাণিজ্যিক ব্যবহার বেআইনি। একইসঙ্গে এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা সিটি করপোরেশনের আইনগত দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে।

এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সম্প্রতি ফুটপাত ও রাস্তার অংশ বিশেষ চিহ্নিত করে তথাকথিত ‘হকার কার্ড’ বিতরণ এবং কাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ জনসাধারণের চলাচলের অধিকারের পরিপন্থি। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফুটপাতকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলে তা সংবিধান ও জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে।

নোটিশে বলা হয়, ফুটপাত ও রাস্তার পাশে স্থায়ী বা অর্ধস্থায়ী কাঠামো তৈরি হলে সড়ক কার্যত সংকুচিত হয়ে পড়ে। এতে যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়, যানজট বাড়ে এবং পথচারীদের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি জ্বালানি, সময় ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে উত্থাপিত ৬ দাবি

বিতরণ করা বা প্রস্তাবিত সব বেআইনি ও জনস্বার্থবিরোধী হকার কার্ড বাতিল করতে হবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ফুটপাত, রাস্তা ও পথচারী চলাচলের স্থান থেকে সব অবৈধ দখল অপসারণ করতে হবে।

অবৈধ দখলদার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভবিষ্যতে পুনর্দখল ঠেকাতে পৃথক মনিটরিং সেল বা টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রয়োজন হলে আইনসম্মত ও পরিকল্পিত স্থানে বিকল্প হকার জোন স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে, যা ফুটপাত বা জনসাধারণের চলাচলের পথের বাইরে হবে।

গৃহীত পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে, যাতে নাগরিকরা অগ্রগতির তথ্য জানতে পারেন।

এম জি