রামিসা হত্যা মামলা 

আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিল সরকার

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে। স্থানীয় আইনজীবীরা আসামিদের পক্ষে লড়তে অস্বীকৃতি জানানোর পর, আইনগত বাধ্যবাধকতা রক্ষায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

রোববার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে জারিকৃত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

ঢাকা আইনজীবী সমিতি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আসামিদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি আদেশে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমূল্যাহকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিধি মোতাবেক তিনি রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ভাতাদি পাবেন।

অন্যদিকে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মামলা লড়ার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

রোববার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট জমা দেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছিল। ঢাকার একটি আদালত আগামী ১ জুন এই মামলার অভিযোগ গঠনের (চার্জফ্রেম) শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্টে হত্যাকাণ্ডের গা শিউরে ওঠা বিবরণ ও প্রমাণ মিলেছে।

ফরেনসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়।

শনিবার (২৩ মে) সিআইডির পক্ষ থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এ সংক্রান্ত ডিএনএ টেস্টের চূড়ান্ত রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে গত ২০ মে (বুধবার) প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এএন