১১ বছরেও শেষ হয়নি ধর্ষক রসু খাঁ’র বিচার প্রক্রিয়া

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০১:৫২ এএম

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে কথিত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর বিচার প্রক্রিয়া। একাধিক ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড হলেও দীর্ঘ ১১ বছরেও শেষ হয়নি তার বিচার কার্যক্রম, যা নতুন করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে।

রসু খাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১১ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালে একটি মামলায় নিম্ন আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ২০২৪ সালে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখেন। রায়ে আদালত তাকে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শাস্তির উপযুক্ত বলে মন্তব্য করেন। তবে প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আপিল শুনানি শেষ হয়নি।

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা রসু খাঁ ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর টঙ্গীতে মসজিদের ফ্যান চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। পরে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এক কিশোরী হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেরিয়ে আসে একের পর এক ধর্ষণ ও হত্যার তথ্য। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিনি ১১টি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে জানা যায়।

২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল খুলনার পোশাককর্মী শাহিদা হত্যা মামলায় প্রথম মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। পরে ২০১৮ সালে পারভীন আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায়ও রসু খাঁ ও তার সহযোগীদের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

আইনজীবীরা বলছেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে আপিল, পেপারবুক প্রস্তুত, রিভিউসহ বেশ কয়েকটি আইনি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লেগে যায়। আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানিয়েছেন, পেপারবুক প্রস্তুত না হলে আপিল শুনানি শুরু করা যায় না, আর এটি করতে অনেক সময় ১০ বছরও লেগে যেতে পারে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে একটি মামলা শেষ হতে গড়ে তিন বছর সাত মাস সময় লাগছে। ফলে বিচার পেতে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে।

এম জি