রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দম্পতি ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান।
এদিন আদালতে চাঞ্চল্যকর এই মামলার ১৮ জন চার্জশিটভুক্ত সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন করা হয়। এর মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। আদালত আগামী বুধবার (৩ জুন) ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে সকাল পৌনে ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হলেও পরবর্তীতে শুনানির নির্ধারিত সময়ে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে হাজির করা হয়।
সকালে মামলার বাদী ও নিহত রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মধ্য দিয়ে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ঘটনার বিবরণ দেন এবং সাক্ষ্য প্রদান করেন:
মামলায় সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার ও বড় বোন রাইসা আক্তার। এছাড়া সাক্ষী তালিকায় আছেন রামিসার ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, ভবনের চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন ও প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু। আরও রয়েছেন দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা ও রামিসার ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন।
এ ছাড়া সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল রোমা আক্তার ও কনস্টেবল শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, পুলিশের এসআই রাশেদুল ইসলাম এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান।
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ আদালতে উপস্থিত সব সাক্ষীকে জেরা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) পঙ্কজ পিটার গোমেজ আজকের আদালতের এই সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এএন