আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়ের তারিখ আজই ঘোষণা হতে পারে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
যুক্তিতর্ক পর্ব শেষেই আদালত রায়ের দিন ধার্য করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, তাঁরা আসামিদের জন্য সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানাবেন।
আইনজীবীদের সূত্রমতে, আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই এই স্পর্শকাতর মামলার চূড়ান্ত রায় চলে আসতে পারে।
এর আগে বুধবার এই মামলার শুনানিতে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন নির্ধারিত ছিল। সকালে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে কারাগার থেকে এনে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর বেলা এগারোটার দিকে একে একে তাদের বিচারকের সামনে হাজির করা হয় এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
শুনানির শুরুতে বিচারক মামলার সমস্ত বিবরণ ও সাক্ষীদের দেওয়া বয়ান আসামিদের পড়ে শোনান এবং তাদের বক্তব্য জানতে চান। এ সময় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল কাঠগড়ায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলেও, তার স্ত্রী স্বপ্না কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সোহেল প্রথমে নিজের অপরাধের দায় এড়াতে ডলার নামের অন্য এক ব্যক্তির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। সে আদালতকে বলে, সে একা অপরাধ করেনি, ডলারও এর সাথে জড়িত ছিল। তাই শাস্তি হলে দুজনেরই হওয়া উচিত।
তবে পরবর্তীতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে সোহেল তার ছোট সন্তানের দোহাই দিয়ে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। একই সঙ্গে সে তার স্ত্রীকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে।
বিচারক এ সময় তাকে থামিয়ে স্বপ্নার বক্তব্য জানতে চাইলে স্বপ্না নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে আদালত থেকে মুক্তি প্রার্থনা করে।
অবশ্য সরকারি আইনজীবীদের মতে, কাঠগড়ায় আসামিদের এমন আচরণ বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত ও ভিন্ন খাতে নেওয়ার একটি অপকৌশল মাত্র। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ জানান, আসামিদের পক্ষে নতুন করে কোনো সাফাই সাক্ষী আদালতে হাজির করা হবে না।
আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার মাত্র এক দিনেই আদালত এই মামলার ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। সাক্ষীদের মধ্যে রামিসার বাবা-মা, বোন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও ছিলেন।
গত ২৪ মে আদালতে এই মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে সোহেলের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। ১ জুন আদালত এই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলার নথির বিবরণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে ফুসলিয়ে নিজেদের ঘরে নিয়ে যায়। পরে রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার মা আসামিদের ঘরের সামনে মেয়ের একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন।
পরবর্তীতে সন্দেহ হওয়ায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর ঢুকলে বিছানায় রামিসার ধড় এবং বাথরুমের বালতিতে তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই নৃশংস ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।
এএন