ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ১২:১১ পিএম

হাম ও রুবেলার ভ্যাকসিন বা টিকা যথাসময়ে আমদানি না করে দেশের লাখ লাখ শিশুর জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলা এবং টিকার কৃত্রিম সংকটে দেশব্যাপী মহামারি সৃষ্টি করে শত শত শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এই মামলার আবেদন জমা দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ২৭০, ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় এই আবেদনটি করেন। 

মামলার আরজি গ্রহণের পর এ বিষয়ে শুনানির বিষয়ে আদালত পরে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ। আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোলাম মোস্তফা খান।

আলোচিত এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।

মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে শিশু জন্মের পর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে হাম ও রুবেলার টিকা নিয়মিত ও বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া হয়ে থাকে। তবে ১ নম্বর আসামি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিয়মিত টিকা আমদানির যে যুগোপযোগী ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ছিল, তা আসামিদের সরাসরি নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ওপেন টেন্ডার বা উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা আমদানির নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘ দেড় বছর সময়ক্ষেপণ করা হয়, যার ফলে দেশজুড়ে টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স গত ২০ মে গণমাধ্যমে স্পষ্ট জানান, হাম ও রুবেলা টিকার এই সম্ভাব্য ভয়াবহ সংকটের বিষয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে ১ থেকে ৫ নম্বর আসামির দপ্তরের ৫ থেকে ৬টি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে অনেক আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকি টিকার সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে নিয়মিত আমদানি প্রক্রিয়া কোনোভাবেই বন্ধ না করার জোর অনুরোধও জানানো হয়েছিল। কিন্তু আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও চরম পেশাগত অবহেলা প্রদর্শন করে সেই আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তায় বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি।

টিকা সময়মতো না পাওয়ার কারণে পুরো দেশে হামের প্রাদুর্ভাব একপর্যায়ে মহামারি আকার ধারণ করে। মামলার আরজিতে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি হিসাব মতেই গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। টিকার এমন তীব্র সংকটের কারণে সরকারি তথ্যমতেই দেশে প্রায় ৬১০ জন কোমলমতি শিশুর নির্মম মৃত্যু ঘটেছে এবং প্রায় ৭৫ হাজার ৭০০ শিশু শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে কতিপয় শিশুর মৃত্যুর হৃদয়বিদারক বিবরণ দিয়ে বলা হয়, গত ২ জুন চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের হারুনুর রশিদ ও ইশরাত জাহান দম্পতির সন্তান আবদুল্লাহ আল ফাহিম এবং ২২ মে আবদুল্লাহ আল নোমান নামে আরেক শিশু ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এর আগে ২২ এপ্রিল জাফরজান ইসলাম ও হেলাল ভূঁইয়া দম্পতির একমাত্র সন্তান ফাইয়াজ হাসান তাজিমও ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যায়।

বাদী তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামিরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় স্থানীয় বনানী থানায় এই মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে সরাসরি আদালত বরাবর দায়ের করার পরামর্শ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিজ্ঞ আদালতে এই মামলার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে জেলহাজতে আটকে রাখার এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আকুল প্রার্থনা করা হয়েছে।

এএন