যেসব কারণে অল্প বয়সেই চুল পেকে যায়

জীবনযাপন ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পাকা স্বাভাবিক একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। সময়ের সঙ্গে চুলের গোড়ায় থাকা ‘মেলানিন’ নামের রঞ্জক উৎপাদনকারী কোষগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যায়। ফলে ধীরে ধীরে চুলের স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে সাদা হতে শুরু করে। তবে বর্তমানে অনেকের ক্ষেত্রেই কম বয়সে চুল পাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ অবস্থাকে বলা হয় ‘প্রিম্যাচিউর গ্রেইং’ বা অকালপক্কতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের আগেই চুল সাদা হয়ে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। আধুনিক জীবনের নানা ব্যস্ততা ও উদ্বেগ অনেকের জন্যই স্থায়ী মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস চুলের রঞ্জক উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। একই সঙ্গে অনিদ্রা, উদ্বেগ ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যাও চুলের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে কিছু ক্ষেত্রে চুলের স্বাভাবিক রঙ আংশিকভাবে ফিরে আসার সম্ভাবনাও থাকতে পারে।

অটো-ইমিউন রোগও অকালে চুল পাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এ ধরনের রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত সুস্থ কোষের ওপর আক্রমণ চালায়। অনেক সময় এই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয় চুলের মেলানিন উৎপাদনকারী কোষ। ফলে রঞ্জক উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং দ্রুত চুল সাদা হয়ে যেতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শরীরে ভিটামিন বি-১২-এর ঘাটতি থাকলেও চুল অল্প বয়সে পেকে যেতে পারে। এই ভিটামিন রক্তের লোহিত কণিকা তৈরি, শরীরের শক্তি উৎপাদন এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রঙ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন বি-১২-এর অভাবে চুলের গোড়ার কোষ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অকালেই চুলের রঙ পরিবর্তন হতে পারে।

এ ছাড়া ধূমপানও চুল দ্রুত পাকার ঝুঁকি বাড়ায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে ৩০ বছরের আগেই চুল সাদা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় বেশি। ধূমপানের কারণে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। পাশাপাশি তামাকের ক্ষতিকর উপাদান চুলের রঞ্জক উৎপাদনকারী কোষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে শুধু চুল পাকার ঝুঁকিই বাড়ে না, চুল ঝরে পড়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অকালে চুল পাকার প্রবণতা দেখা দিলে অবহেলা না করে জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান পরিহার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: জিও নিউজ

এএন