আজ বিশ্ব গাধা দিবস  

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ৮, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

গাধা, এই প্রাণিটির নাম শোনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। স্কুলজীবনে কাউকে না কাউকে ‘গাধা’ বলে উপহাস করা বা তুলনা করা-এ অভিজ্ঞতাও অনেকেরই রয়েছে। তবে এই প্রাণীটি মানুষের জীবনে বহু শতাব্দী ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে, সেই স্বীকৃতি অনেক সময়ই আলোচনায় আসে না।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে একটি আন্তর্জাতিক দিবস চালু করা হয়েছে-বিশ্ব গাধা দিবস। আজ ৮ মে এই দিবসটি পালিত হয়, যার উদ্দেশ্য গাধার অবদান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।

প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাণিবিজ্ঞানী আর্ক রাজিক মরুভূমির প্রাণী নিয়ে কাজ করার সময় লক্ষ্য করেন যে গাধা মানুষের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছে না। এই ভাবনা থেকেই তিনি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেন।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব গাধা দিবস উদ্‌যাপন করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ৮ মে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো গাধার গুরুত্ব, ব্যবহার এবং জীববৈচিত্র্যে এর ভূমিকা সম্পর্কে মানুষকে জানানো।

ঐতিহাসিকভাবে গাধা মানুষের নিত্যসঙ্গী প্রাণী। পণ্য পরিবহন, কৃষিকাজ, নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন কঠিন কাজে এটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এমনকি অতীতে যুদ্ধকালীন সময়েও গাধার ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য।

বর্তমানেও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গাধা শ্রমজীবী মানুষের সহায়ক প্রাণী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় ভারী জিনিস পরিবহনে এটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে কিছু দেশে বাণিজ্যিক কারণে গাধার ব্যবহার ও সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যেমন চীনে গাধার চামড়ার নিচের অংশ থেকে প্রাপ্ত জেলাটিন জাতীয় পদার্থ ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই শিল্পের কারণে দেশটিতে গাধার সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশ্ব গাধা দিবস তাই শুধু একটি প্রাণীর দিন নয়, বরং মানুষের জীবনে নীরবে অবদান রাখা একটি অবমূল্যায়িত প্রাণীর প্রতি সম্মান জানানোর একটি প্রচেষ্টা।

এম জি