অধ্যাপক আলী রীয়াজকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে 'সম্পূর্ণ মনগড়া, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে আখ্যা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। তারা জানিয়েছে, কয়েক দিন ধরে অতন্দ্রানু রিপা নামের এক নারী ইচ্ছাকৃতভাবে অধ্যাপক রীয়াজের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে ‘মানহানিকর বক্তব্য প্রচার বিষয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজের বিবৃতি’ শিরোনামে পাঠানো বার্তায় এ বিষয়ে সরকার গভীরভাবে নজর রাখছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে এসব অসত্য তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রেস উইংয়ের বার্তায় উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে যেসব দাবি করা হয়েছে, তার কোনোটিই সত্য নয়। অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—ভিডিওতে যাঁর কথা বলা হয়েছে, সেই নারীকে তিনি চেনেন না এবং কখনোই তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি। তাঁর ভাষায়, এসব প্রচারণা 'চরিত্র হননের একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা, যার উদ্দেশ্য স্পষ্টতই তাঁকে বিতর্কের কেন্দ্রে এনে দেয়ালচাপা করা।
তিনি অনতিবিলম্বে এমন অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—এ ধরনের কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য অব্যাহত থাকলে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বর্তমানে ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন—গণ–অভ্যুত্থানের পর গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের একটি, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ছিলেন তিনি।
ছয় কমিশনের সুপারিশ ও দীর্ঘ আলোচনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হলে, এর সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন অধ্যাপক রীয়াজ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আট মাসের সংলাপ শেষে ঐকমত্য কমিশন গত অক্টোবরে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ চূড়ান্ত করে। পরে সেই সনদের ভিত্তিতেই সরকার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করে।
এই প্রেক্ষাপটে তার নামকে কেন্দ্র করে এমন একটি বিতর্ক তৈরি হওয়াকে সরকার ‘সন্দেহজনক’ ও ‘উদ্দেশ্যমূলক’ বলেই মনে করছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা তৈরি করে। তাই সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকার মনে করছে, জাতীয় সংস্কার কার্যক্রমের মতো সংবেদনশীল সময়কে ঘিরে বিভ্রান্তিমূলক ভিডিও ছড়িয়ে পড়া কেবল ব্যক্তিকে নয়, বরং চলমান গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।a
ইএইচ