ওসমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ মালিক গ্রেপ্তার

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ১০:৪৩ এএম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ এর মালিক আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

রোববার সকালে র্যাবের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত হান্নানের বাবার নাম মো. আবুল কাশেম, তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। র‌্যাব আরও জানিয়েছে, হামলায় হান্নান সরাসরি জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

র্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল হান্নানকে পল্টন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওসমান হাদিকে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির নম্বর ৫৪-৬৩৭৫।

এর আগে, গতকাল শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী হামলায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেন।

এদিকে, গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাকে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখা হয়েছে। বিবৃতিতে মেডিকেল বোর্ডের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরা হয়েছে:

১. মস্তিষ্কের ক্ষতি: রোগীর মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপ সম্পন্ন হওয়ায় বর্তমানে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখা হয়েছে। ব্রেন প্রোটেকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট চালু থাকবে। অবস্থা স্থিতিশীল হলে পুনরায় সিটি স্ক্যান করা হতে পারে।

২. ফুসফুস ও সংক্রমণ: ফুসফুসে ইনজুরি রয়েছে। চেস্ট ড্রেইন টিউব দিয়ে অল্প রক্ত নির্গত হওয়ায় তা চালু রাখা হয়েছে। সংক্রমণ ও এআরডিএস (ARDS) প্রতিরোধে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট অব্যাহত থাকবে।

৩. কিডনির কার্যক্ষমতা: কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরে এসেছে। ফ্লুইড ব্যালেন্স বজায় রেখে চিকিৎসা চলবে।

৪. রক্ত নিয়ন্ত্রণ: পূর্বের ডিআইসি (DIC) নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে রক্ত ও রক্তজাত উপাদান সঞ্চালন করা হবে।

৫. হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ: ব্রেন স্টেম ইনজুরির কারণে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন ওঠানামা করছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাপোর্ট চলমান। হৃদস্পন্দন কমলে টেম্পোরারি পেসমেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

৬. কৃতজ্ঞতা ও অনুরোধ: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক ও স্টাফদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। রোগীর সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অপ্রয়োজনে হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ করা হয়েছে।

৭. তথ্য প্রকাশ ও গোপনীয়তা: মেডিকেল সামারি রোগীর ভাই ও নিকটাত্মীয়দের অবহিত করা হয়েছে। তারা গণমাধ্যমে তথ্য জানাতে পারেন। অনুমানভিত্তিক তথ্য প্রচার না করতে এবং গোপনীয়তা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। মেডিকেল টিম সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

জেএইচআর