মৃত্যুর পর যেখানে সমাহিত হতে চেয়েছিলেন হাদি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ০৩:০০ পিএম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির (ওসমান হাদি) শাহাদাতের সংবাদে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা। ঘাতকের বুলেটে সাত দিনের লড়াই শেষে হাদির চিরবিদায়ের খবরে তার পৈতৃক বসতভিটায় ভিড় করছেন হাজারো চেনা-অচেনা মানুষ। প্রিয় সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছেন গ্রামবাসী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাদির অন্তিম ইচ্ছা ছিল তাকে যেন তার বাবার কবরের পাশেই সমাহিত করা হয়। ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার খাসমহল এলাকার সেই সাধারণ টিনশেড ঘরটিতে এখন কেবলই শূন্যতা। 

নিহত হাদির ভগ্নপতি আমীর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বাবার কবরের পাশে শায়িত হওয়ার ইচ্ছার বিষয়টি নিয়ে তারা ভাবছেন, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।

১৯৯৩ সালে মাওলানা আবদুল হাদি ও তাসলিমা হাদির ঘরে ছয় সন্তানের মধ্যে সবার ছোট হিসেবে জন্ম নিয়েছিলেন হাদি। নেছারাবাদ এন এস কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম শেষ করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও শৈশব থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হাদি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হয়ে উঠেছিলেন সারা দেশের তারুণ্যের প্রতীক।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই নলছিটির সেই ভাঙাচোরা ঘরের সামনে মানুষের জটলা দেখা গেছে। হাদির বোন ও পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়েছেন আগন্তুকরা।

গ্রামবাসী বলছেন, হাদি কেবল একটি নাম ছিল না, তিনি ছিলেন এক লড়াকু প্রতিষ্ঠান। ঢাকা-৮ আসনে গণসংযোগকালে ঘাতকের হামলায় প্রাণ হারানো এই বীর সেনানির মৃত্যুতে স্থানীয়দের কণ্ঠে এখন কেবলই শোক আর বিচারের দাবি।

ইএইচ