সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হাদির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ১২:১২ পিএম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে শহীদ হাদির মরদেহ পুনরায় জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গোসল ও কাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার জন্য মরদেহ নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে শহীদ হাদির মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এ সময় হাসপাতাল এলাকা ও আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

জানা গেছে, সহযোদ্ধা, সমর্থক ও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মিছিলসহ শহীদ হাদির মরদেহ নেয়া হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, জানাজা উপলক্ষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। মাঠে মোতায়েন থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যাতে পুরো আয়োজন স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে সম্পন্ন করা যায়।

ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে জানানো হয়, পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শহীদ ওসমান হাদিকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। একই সঙ্গে বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা আদায়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

শহীদ হাদির জানাজাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মানুষের ঢল নামে। বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যেই অ্যাভিনিউয়ের বড় একটি অংশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দলে দলে মিছিল নিয়ে ছাত্র-জনতা সেখানে জড়ো হতে থাকেন।

এ সময় উপস্থিত মানুষের কণ্ঠে কণ্ঠে শোনা যায় নানা স্লোগান- ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’।

শহীদ হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও জানাজায় অংশ নিতে উপস্থিত হন।

জানাজা ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের প্রবেশপথগুলোতে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে, পাশাপাশি র‌্যাব, আনসার ও পুলিশ সদস্যদের বিপুল সংখ্যক মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ কার্যক্রমে অংশ নিতে গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই টানা কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হাদির মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। একই দিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি অবতরণ করে।

মরদেহ দেশে ফেরার পর থেকেই সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে শহীদ হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

শহীদ হাদির জানাজাকে ঘিরে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি তার প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে এমন ঘটনা সমাজে আরও অস্থিরতা তৈরি করবে। তারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

জেএইচআর