গানম্যান পেলেন নাহিদ-হাসনাত-সারজিস-জারা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ১২:০৮ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির সমন্বয়ক, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে আন্দোলনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে গানম্যান প্রদান করা হয়েছে এবং তাঁদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তার তালিকায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। 

এছাড়া, আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে শাহাদাতবরণকারী শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির (ওসমান হাদি) পরিবারকে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে। শহীদ হাদির এক বোনকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও সম্ভাব্য প্রার্থী গানম্যান ও অস্ত্রের আবেদন করেছেন। 

এই তালিকায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ সেখ। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এখন পর্যন্ত ১৫ জন রাজনীতিবিদ ও ২৫ জন সরকারি কর্মকর্তার আবেদন জমা পড়েছে।

পুলিশের আইজি বাহারুল আলম জানান, “যাঁরা অধিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে (ভালনারেবল) রয়েছেন, তাঁদের অস্ত্রধারী রক্ষী দেওয়া হয়েছে। অন্যদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।” ডিএমপি ও এসবির পক্ষ থেকে বর্তমানে অস্থায়ীভাবে গানম্যান সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সমন্বয়কদের অনেকেই ছাত্র এবং গণপরিবহনে চলাচল করায় তাঁদের প্রটোকল বা নিরাপত্তা প্রদানের পদ্ধতি নিয়ে বিশেষ চিন্তাভাবনা করছে পুলিশ।

অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই যোদ্ধা এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রকৃত ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা এসপি ও রেঞ্জ ডিআইজিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইএইচ