উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে অধ্যাদেশ জারির উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দিতে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করতে ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী ও মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই আইনি সুরক্ষার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, সেই আদলে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করার বিষয়ে সভায় প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও গত ৪ জানুয়ারি এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানানো হয়েছিল, যা উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ বিষয়ে জানান, জুলাই বিপ্লবের সৈনিকেরা দেশকে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত করতে জীবনবাজি রেখে লড়েছেন। তারা অবশ্যই দায়মুক্তির অধিকার রাখেন। 

তিনি আরও জানান, সমসাময়িককালে অন্যান্য দেশে এ ধরনের গণ-অভ্যুত্থানের পর হওয়া আইনি অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদের আলোকে এই খসড়া তৈরি করা হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে উপদেষ্টা মণ্ডলীর বৈঠকে।

উল্লেখ্য যে, গত বছর ১৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জুলাই অভ্যুত্থানের সাথে সংশ্লিষ্টদের মামলা বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দিয়েছিল। এ ছাড়া ৫ আগস্টের জুলাই ঘোষণাপত্রেও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছিল।

জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অগ্রগতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় আগামী ৭ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কমিটির সদস্যবৃন্দ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচ