জঙ্গল সলিমপুরে সমন্বিত অপারেশন, খুনি ও ইন্ধনদাতাদের ধরতে সরকারের কঠোর আলটিমেটাম

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব কর্মকর্তার ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এবং এর পেছনে থাকা ইন্ধনদাতাদের গ্রেপ্তারে দেশের সবগুলো বাহিনীর সমন্বয়ে এক বিশাল ‘সমন্বিত অভিযান’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বৈদেশিক সেবা একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের এই অনড় অবস্থানের কথা জানান।

সলিমপুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও বিশেষ অভিযান গত সোমবার সন্ধ্যায় জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলার শিকার হন র‍্যাব-৭ এর সদস্যরা। এতে উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন। 

এই ঘটনাকে ‘জঘন্য কাজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, আমরা এই নজিরবিহীন হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধমুক্ত করতে সেখানে আরও জোরদারভাবে অভিযান চালানো হবে। কোনো একক বাহিনী নয়, বরং সব বাহিনী মিলে সেখানে একটি সমন্বিত অপারেশন চালাবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং যারা পর্দার আড়াল থেকে ইন্ধন জুগিয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”

নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর নির্দেশ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার’ অভিযানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, বিগত সময়ে লুট হওয়া এবং বর্তমানে অবৈধভাবে থাকা সমস্ত অস্ত্র নির্বাচনের আগেই যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করতে হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

প্রশাসনিক সংস্কার: ডিএমপি বিভক্তির প্রস্তাব ও নতুন ৪ থানা এদিন প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন চার থানা, গাজীপুরের পূর্বাচল উত্তর, নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল দক্ষিণ, কক্সবাজারের মাতারবাড়ী এবং নরসিংদীর রায়পুরাকে ভেঙে নতুন একটি থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। 

এছাড়া রাজধানী ঢাকার বিশাল জনসংখ্যা ও কাজের পরিধি বিবেচনায় ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) উত্তর ও দক্ষিণ, এই দুই ভাগে বা অন্য কোনো কার্যকর উপায়ে বিভক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ডিএমপিতে ৫০টি থানা রয়েছে, যা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। তবে বিভক্তির বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

নির্বাচনী কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে জোরালো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো কারচুপি বা সহিংসতা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

সলিমপুরের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা র‍্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার মৃত্যুতে পুরো চট্টগ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। সরকার এখন পুরো এলাকাটিকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা করছে। সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে এলাকাটিতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

উপসংহার জঙ্গল সলিমপুরের ঘটনাকে সরকার রাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করে অপরাধীরা যে বার্তা দিতে চেয়েছিল, সরকার তার জবাবে ‘সমন্বিত অপারেশনের’ মাধ্যমে কঠোর বার্তা দিল। একদিকে নতুন থানা স্থাপন এবং ডিএমপি বিভক্তির মতো প্রশাসনিক সংস্কার, অন্যদিকে অস্ত্র উদ্ধার ও সিসিটিভি স্থাপনের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সব মিলিয়ে একটি অবাধ ও ভয়হীন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

প্রতিবেদনের মূল তথ্যগুলো হলো, সলিমপুর হামলার ঘটনায় খুনি ও ইন্ধনদাতাদের ধরতে সব বাহিনীর ‘সমন্বিত অপারেশন’ চালানো হবে। উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন হত্যার তীব্র নিন্দা ও বিচারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। 

নির্বাচনের আগে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন। ৪টি নতুন থানা অনুমোদন এবং ডিএমপি বিভক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 জেএইচআর