রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে সাফল্যের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শুক্রবার ভোরে নরসিংদী এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া 'শুটার' আবদুর রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ নিয়ে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মূল আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য গ্রেপ্তারকৃত রহিমকে নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার রবিউল হোসেন ভূঁইয়া আজ বিকেলে গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মুছাব্বির হত্যার পর থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুটার আবদুর রহিমের অবস্থান শনাক্ত করার পর নরসিংদীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিউল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় মোটরসাইকেলে এসে যারা গুলি চালিয়েছিল, আবদুর রহিম তাদের মধ্যে অন্যতম। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে নিয়ে আমরা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রুতই আমরা অস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারব।
গত ৭ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলি দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র আততায়ী মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন আজিজুর রহমান মুছাব্বির।
এ সময় তার সাথে থাকা তেজগাঁও থানার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মাসুদ বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ডিবি পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বিল্লাল এবং সরাসরি গুলি বর্ষণকারী শুটার জিন্নাতসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গ্রেপ্তারকৃত জিন্নাত ও রহিম পেশাদার শুটার হিসেবে ভাড়াটে ভিত্তিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কোন্দল নাকি অন্য কোনো নেপথ্য কারণ রয়েছে, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
নিহত আজিজুর রহমান মুছাব্বির বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন।
তার হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক মহলে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছিল।
ডিবি সূত্র জানিয়েছে, মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট জড়িতদের সংখ্যা এবং তাদের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে এ চক্রের বাকি সদস্যদের ধরার জন্য জাল বিছানো হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর তেজগাঁও ও এর আশপাশের এলাকায় অপরাধী চক্রের তৎপরতা নির্মূল করতে পুলিশ ও গোয়েন্দারা কাজ করছে।
এদিকে, একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতার এমন 'টার্গেট কিলিং' এর ঘটনায় রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, জনবহুল এলাকায় এমন দুঃসাহসিক হত্যাকাণ্ড ঘটানো চক্রটিকে সমূলে উৎপাটন করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।