ভারত-ম্যাচ বয়কট করায় পাকিস্তানকে আসিফ নজরুলের ধন্যবাদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১১:৩২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে নজিরবিহীন এই সংহতির ঘটনায় পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি পাকিস্তানকে এই বিশেষ ধন্যবাদ জানান। সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল সরাসরি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্য উদ্ধৃত করেন। 

তিনি লেখেন, ধন্যবাদ পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, বাংলাদেশকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁর দেশ ভারত–ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমরা খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি মনে করি এটি খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত’।

শরিফ বলেন, খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়। পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) অত্যন্ত ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এটি ছিল পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই বয়কটের কারণ হিসেবে প্রথম কোনো দাপ্তরিক বক্তব্য।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বাদ পড়ার সূত্রপাত হয়েছিল মূলত নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে কেন্দ্র করে।

মোস্তাফিজ প্রসঙ্গ: গত ৩ জানুয়ারি ভারতীয় উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার ভারতের মাটিতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

বিসিবির অনুরোধ: বিসিবি আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরিয়ে নিতে।

আইসিসির প্রত্যাখ্যান: আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধকে ‘বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে।

এই ঘটনার প্রতিবাদেই পাকিস্তান তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে না খেলার এই চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক আয়োজন। পাকিস্তানের এই বয়কটের সিদ্ধান্তের ফলে আইসিসি ও সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো বিশাল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

ক্ষতির পরিমাণ: বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি ম্যাচ না হলে আইসিসি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

আইনি জটিলতা: সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আইসিসির চুক্তিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন সেই ম্যাচ না হলে চুক্তিভঙ্গের দায়ে আইসিসি বড় ধরনের আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসিফ নজরুলের এই ধন্যবাদ এবং পাকিস্তানের এই সংহতি দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের সংকেত দিচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতি পাকিস্তানের এই ‘ভ্রাতৃত্বসুলভ’ মনোভাব আগামীতে আঞ্চলিক ক্রীড়া কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে কি না, তা নিয়ে সারা বিশ্বের নজর এখন কলম্বোর দিকে। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এটিই স্পষ্ট করে যে, মাঠের লড়াইয়ের বাইরে ক্রিকেটের অফ-ফিল্ড রাজনীতি এখন এক উত্তপ্ত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

এএন