নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি

রণক্ষেত্র শাহবাগ-ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামানে ছত্রভঙ্গ আন্দোলনকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

রাজধানীর রাজপথ আজ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভে। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে আন্দোলনকারীদের পদযাত্রা ঠেকাতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করলে এলাকাটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। 

কয়েক ঘণ্টার উত্তেজনা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর বেলা সোয়া একটার দিকে পুলিশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কয়েক হাজার কর্মচারী শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে গিয়ে দাবি পেশ করা। 

আন্দোলনকারীরা শাহবাগ থেকে যমুনার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ প্রথম দফায় ব্যারিকেড দিয়ে তাদের বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তারা অফিস না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ এবং যমুনারে যমুনা, পে স্কেল ছাড়া যাব না বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে কর্মচারীরা মিন্টো রোডের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে যায়। বেলা ১১টার পর পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে দফায় দফায় জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এ সময় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কর্মচারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন কর্মচারী আহত হন, যাদের সহকর্মীরা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। 

যমুনার নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাকরাইল মসজিদ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ থেকে সরে গিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নেন। তারা সেখানে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ শুরু করলে বাংলামোটর থেকে শাহবাগমুখী সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বেলা একটার দিকে পুলিশ চূড়ান্ত অ্যাকশন শুরু করে। 

ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে থাকা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে একের পর এক সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। বিকট শব্দে এলাকাটি প্রকম্পিত হয়ে উঠলে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শাহবাগের দিকে এবং অন্য অংশটি বাংলামোটরের দিকে চলে যায়। সোয়া একটার দিকে পুলিশ পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিলে মূল সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিস সহকারী বোরহান উদ্দিন বলেন, নবম পে স্কেলের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করছে না। আমরা জানতে পেরেছি, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে আমাদের এ ন্যায্য দাবি আটকে আছে। পে স্কেল ছাড়া আমরা ঘরে ফিরব না। 

আন্দোলনরত কর্মচারীদের দাবি, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে তাদের আগের স্কেলে জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এ দাবি পূরণে সরকারের উদাসীনতাই তাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, সকাল থেকেই কর্মচারীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কথা না শোনায় পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়।

এদিকে নবম পে স্কেলের আন্দোলনের সমান্তরালে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে তাদের এ কর্মসূচি চলছে। একই এলাকায় দুটি পৃথক সংগঠনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো মিন্টো রোড ও শাহবাগ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। 

পুলিশের অ্যাকশনে আজকের মতো আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছাড়লেও তাদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। কর্মচারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না করলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন। অন্যদিকে নির্বাচন সন্নিকটে হওয়ায় রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে প্রশাসন।

ইএইচ