আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার পদে নতুন মুখের গুঞ্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জনপ্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদে রদবদলের বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন।

বর্তমান আইজিপি এবং ডিএমপি কমিশনারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বহাল থাকলেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে সচিবালয় থেকে শুরু করে পুলিশ সদর দপ্তর পর্যন্ত চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সূত্রমতে, পুলিশের সর্বোচ্চ পদ ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (আইজিপি) এবং রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী ডিএমপি কমিশনার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, অতীত অভিজ্ঞতা এবং নতুন সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সক্ষম কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের আইজিপি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত জ্যেষ্ঠতা এবং মাঠপর্যায়ে নেতৃত্বের দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের মেয়াদ আরও কয়েক মাস বাকি থাকলেও সরকার নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে পারে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। 

১২তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে কর্মরত। তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি আইজিপি পদের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে র‍্যাবের ইমেজ পুনরুদ্ধারে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আগামী ১৫ মার্চ শেষ হতে যাচ্ছে। সরকার যদি তাঁকে আইজিপি হিসেবে বেছে নেয়, তবে সেটি হবে সংস্থাটির জন্য একটি বড় সাংগঠনিক চমক।

এপিবিএন প্রধান আলী হোসেন ফকির এবং সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ—উভয়েই নিজ নিজ দপ্তরে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে তদন্ত সংস্থা এবং অপারেশনাল ইউনিটে তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আইজিপি পদের জন্য তাঁদের যোগ্য দাবিদার করে তুলেছে।

প্রশাসনিক প্রয়োজনে অনেক সময় অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনা হয়। সেই ধারায় মতিউর রহমান শেখ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠান-এর নামও আলোচিত হচ্ছে। আনসার উদ্দিন খান পাঠান ২০২২ সালে অবসরে গেলেও তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা সরকারের উচ্চমহলের নজরে রয়েছে।

ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর মেয়াদ চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত থাকলেও নতুন সরকার দ্রুততম সময়ে এখানে পরিবর্তন আনতে পারে।

বর্তমানে সিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত হাসিব আজিজ ঢাকার মাঠপর্যায়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দক্ষ হিসেবে পরিচিত। তাঁকে ডিএমপির শীর্ষ পদে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস) হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তা পুলিশ বাহিনীর অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করেছেন। প্রশাসনের ভেতর তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে এই পদের অন্যতম দাবিদার করেছে।

র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে বর্তমানে কর্মরত ফারুক আহমেদের নামও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কমান্ডিং অফিসার হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ডিএমপির মতো বিশাল ইউনিটের জন্য সহায়ক হতে পারে।

২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সময়ে পুলিশের সংস্কার নিয়ে দেশজুড়ে দাবি উঠেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সেই সংস্কারের কাজ শুরু করলেও নির্বাচিত সরকার আসার পর সেই প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের প্রতি জনমানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা নতুন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পুলিশ যেন আইন অনুযায়ী চলতে পারে, তা নিশ্চিত করা। র‍্যাবকে একটি আইনি কাঠামো ও স্বচ্ছতার মধ্যে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা।

 ‘পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু এই স্লোগানকে সামনে রেখে নতুন সরকার এমন কর্মকর্তাদের শীর্ষ পদে আনতে চায় যারা বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে বদ্ধপরিকর।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র।

যদিও গুঞ্জন অনেক, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের ওপর। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসেই (মার্চ ২০২৬) পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। আইজিপি এবং ডিএমপি কমিশনারের পাশাপাশি পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা এসপি পর্যায়েও ব্যাপক রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে।

জনগণ আশা করছে, পদের মোহ বা রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানো হবে।

এএন