অভিযোগে ভাসছেন সাবেক উপদেষ্টারা, আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষা

আবু তাহের  প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শত শত অভিযোগ জমা পড়ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে বলে জানিয়েছে দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, যা রেকর্ড সংখ্যায় পৌঁছাতে পারে। অধিকাংশ অভিযোগ নাম প্রকাশ না করে করা হলেও কিছু অভিযোগে অভিযোগকারীরা পরিচয় উল্লেখ করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, অন্যান্য অভিযোগের মতোই এসব অভিযোগও নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে।

সূত্র মতে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ, আয়কর ফাঁকি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন অভিযোগপত্রে।

সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল-এর বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়নে অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রভাব খাটিয়ে জামিন প্রদান ও বদলি বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান-এর বিরুদ্ধে প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে তার পরিবারের সম্পৃক্ততা নিয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া জ্বালানি খাতের সাবেক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান-এর বিরুদ্ধে বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের সাবেক উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম-এর বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ-এর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং অবৈধ বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক সূত্র।

অন্যদিকে, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম-এর বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় যেন কেউ হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, যেসব অভিযোগে প্রাথমিক সত্যতা মিলবে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।

এএন