হাদির বোন

শুধু ফয়সালকে ফাঁসি দিয়ে ‘মূল খুনিদের’ যেন আড়াল করা না হয়

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
মাসুমা হাদি। ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বোন মাসুমা হাদি। তিনি বলেছেন, শুধু ফয়সালকে ফাঁসি দিয়ে যেন ‘পর্দার আড়ালের মূল খুনিদের’ আড়াল করা না হয়।

সোমবার সকালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকার বাড়িতে বসে একটি গণমাধ্যমকে এই কথা জানান তিনি।

মাসুমা হাদি বলেন, ‘ফয়সাল একজন শুটার। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে আমরা কিছুটা আশাবাদী যে তার বিচার হবে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কারা জড়িত, ফয়সালকে কে নির্দেশ দিয়েছে, কে অর্থ জুগিয়েছে এবং কারা তাকে জেল থেকে জামিনে বের করতে সহায়তা করেছে, এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করা প্রয়োজন।’

পুরো গ্যাং যেন সামনে আসে এবং জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ফয়সাল যেন বলির পাঁঠা না হয়। ফয়সালের ফাঁসি দিয়ে অন্যদের আড়াল করা হলে তা কখনোই ন্যায়বিচার হবে না।

এর আগে, রোববার হাদি হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

এসটিএফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এদিকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হলেও এতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছে না হাদির পরিবার। 

নিহতের বোন মাসুমা হাদি বলেছেন, শুধু ফয়সালকে ফাঁসি দিয়ে যেন ‘পর্দার আড়ালের মূল খুনিদের’ আড়াল করা না হয়।

হাদির বোন বলেন, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার সম্পন্ন করতে এবং ফয়সাল ও আলমগীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী।

গুরুতর আহত হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করে বলে অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়।

তবে ওই অভিযোগপত্রে ইনকিলাব মঞ্চ সন্তুষ্ট নয়। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি দাখিল করায় আদালত সিআইডিকে মামলাটি নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।

এএন