আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এখন থেকে রাস্তার যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করালে সংশ্লিষ্ট বাস ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও চাঁদামুক্ত রাখা’ শীর্ষক এই সভায় মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ডিএমপি কমিশনার সড়ক ব্যবস্থাপনার নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন।
সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় চালকের ক্লান্তি ও ঘুম দূরপাল্লার দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এই ঝুঁকি এড়াতে বাস মালিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘প্রতিটি বাসে যেন একাধিক চালক বা ‘ডাবল ড্রাইভার’ থাকে। একজন চালকের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকলে তা জীবনের ঝুঁকি তৈরি করে। চালক সতেজ থাকলে ঈদযাত্রা হবে নিরাপদ।
রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে দীর্ঘ যানজটের অন্যতম কারণ হলো বাসের যত্রতত্র স্টপেজ। কমিশনার স্পষ্ট করে জানান, টার্মিনাল বা নির্ধারিত বাস স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথাও যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না।
তিনি বলেন, ‘ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশ সব সংস্থার সাথে সমন্বয় করছে। এরপরও যদি কেউ যত্রতত্র বাস থামিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তবে পুলিশ বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। এ লক্ষ্যে টার্মিনালসহ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সার্বক্ষণিক মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় থাকবে।’
টার্মিনালগুলোতে পরিবহন শ্রমিক বা মাস্তানদের চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে। যাত্রী হয়রানি রোধে সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশের সাহায্য কেন্দ্রগুলো ২৪ ঘণ্টা সচল থাকবে বলে জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিগত দুটি ঈদের সফল ব্যবস্থাপনার উদাহরণ টেনে বলেন, ‘মালিক ও শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গত দুটি ঈদযাত্রা আমরা নির্বিঘ্ন করতে পেরেছি। এবারও সরকার ও পুলিশের সাথে সমন্বয় করে আমরা সাধারণ মানুষকে একটি ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা উপহার দিতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’
ঈদের আনন্দ যেন সড়ক দুর্ঘটনার বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্যই প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি। যত্রতত্র স্টপেজ বন্ধ করা গেলে ঢাকার প্রবেশমুখের যানজট অনেকাংশে কমে আসবে এবং যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
এএন