গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েছে সরকার।
বুধবার দিবাগত রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক কয়েকটি প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পদোন্নতি, বদলি এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের এক সমন্বিত প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা প্রশাসনের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকার প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার আটজন দক্ষ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব অর্পণ করেছে। তারা হলেন-
মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া: ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে তাকে পদোন্নতি দিয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব করা হয়েছে।
ইয়াসমিন পারভীন: ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এসডিএস (অতিরিক্ত সচিব) থেকে পদোন্নতি পেয়ে তিনি এখন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব।
মো. মোখতার আহমেদ: খুলনার বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে মাঠ প্রশাসনে দক্ষতার পরিচয় দেওয়া এই কর্মকর্তাকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব পত্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রায়হান কাওছার: ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব থেকে পদোন্নতি পেয়ে তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
মো. জাকারিয়া: নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তাকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব করা হয়েছে।
কাজী আনোয়ার হোসেন: স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব থেকে পদোন্নতি পেয়ে তিনি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে সচিব হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
ফাহমিদা আখতার: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত এই নারী কর্মকর্তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
মো. দেলোয়ার হোসেন: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব থেকে তাকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মেধা কাজে লাগাতে সরকার বদলি ও চুক্তির পথও বেছে নিয়েছে।
চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এস এম এবাদুর রহমানকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেই এই সিদ্ধান্ত।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বিদায়ী সচিব কানিজ মওলাকে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে (আইএমইডি) বদলি করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়াকেও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য পদে বদলি করা হয়েছে।
রদবদলের অংশ হিসেবে চারজন বর্তমান সচিবকে তাদের বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি সদৃশ) করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নতুন কোনো কর্মস্থলের নাম ঘোষণা করা হয়নি।
একই সাথে ১২টি দপ্তরে এই পরিবর্তন প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই রদবদল।
বিশেষ করে আইসিটি, পরিবেশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সরকার প্রশাসনিক সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং পরিকল্পনা কমিশনের মতো নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে যাতে করে আইনি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলোতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
বুধবার রাতের এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই নতুন নিযুক্ত সচিবদের অভিনন্দন জানানোর হিড়িক পড়েছে। আগামী কয়েক কার্যদিবসের মধ্যেই তারা তাদের নিজ নিজ দপ্তরে নতুন কার্যভার গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই বড় ধরনের রদবদল জনসেবা এবং সরকারি কাজের গতিকে কতটা ত্বরান্বিত করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এএন