মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে রাজধানীর মেট্রোরেলে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো হাসপাতালের ইনফরমেশন সেন্টার এর বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ট্রেনের স্ক্রিনে এই বিজ্ঞাপন ভেসে উঠতে দেখা যায়। তবে জানা গেছে, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয় গত প্রায় ২০ দিন ধরে এই বিজ্ঞাপন চলছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এটি হাসপাতালের সরাসরি বিজ্ঞাপন নয়, বরং হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্র বা কনসাল্টেন্সি সেন্টারের বিজ্ঞাপন।
বাংলাদেশে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর যমুনা ফিউচার পার্কে যাত্রা শুরু করে এই ইনফরমেশন সেন্টার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলা হয়েছিল, এই সেন্টারের মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগীরা পাবেন ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং, ভিসা ইনভাইটেশন লেটার, চিকিৎসার পরিকল্পনা ও ব্যয় অনুমান।
অ্যাপোলো হাসপাতালের ঢাকার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান জানালেন, “আমরা কোনো ডাক্তারকে বাংলাদেশে পাঠাই না। এটি একটি কনসাল্টেন্সি ফার্ম, যা রোগীদের ভারতে চিকিৎসা নিতে সহায়তা করে। আমাদের বিজ্ঞাপন হাসপাতালের নয়, তথ্যকেন্দ্রের।”
এদিকে, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. উসমান গনি বলেন, মেট্রোরেলে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের দায়িত্ব বর্তমানে এনেক্স কমিউনিকেশন এর। বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন গিয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে অনুমোদনের সর্বোচ্চ সংস্থা বিএমডিসি কেবল ব্যক্তিগত চিকিৎসকের ক্ষেত্রে অনুমোদন দেয়। হাসপাতাল বা ক্লিনিকের বিষয়টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার এখতিয়ারে পড়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবুল হোসেন মাইনুল আহসান জানিয়েছেন, “এটি কোনো অনুমোদিত হাসপাতাল নয়, তাই আমরা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। আশা করি আগামীকাল থেকে বিজ্ঞাপন সরানো হবে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে এই ধরনের বিদেশি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন সরকারি নীতি ও জনমনের সংবেদনশীলতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের ক্ষেত্রে স্থানীয় নীতি ও নিয়ন্ত্রণ অগ্রাধিকার পায়।
এএন