বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়ন ও খামারিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ বীমা নীতিমালা ২০২৫’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের (MoFL) অধীনে পরিচালিত প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্পের (LDDP) আওতায় এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (DLS) দ্বারা বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড নেটওয়ার্ক ফর লাইভস্টক ইনফরমেশন’ (BINLI)। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ৮টি বিভাগের ১৬টি জেলার ১৬টি উপজেলার ৫০০১৮টি গবাদি পশু এবং ৮১৫৩টি খামারকে একটি ডিজিটাল ডাটাবেসে নিবন্ধিত করা হয়েছে।
ইতালির এজিটি ইন্টারন্যাশনাল (AGT International) এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান সোডেভ কনসাল্ট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (SODEV Consult International Ltd) যৌথভাবে এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে। এই ডাটাবেসে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য ও উৎপাদন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত থাকছে। বর্তমানে এই সিস্টেমের মাধ্যমে প্রায় ১০০০ কোটি গবাদিপশুর তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং দেশের সকল সিটি করপোরেশন ও মেট্রো এলাকাসহ সকল জেলা-উপজেলাকে এই সফটওয়্যারের আওতায় আনা হয়েছে।
নবনির্বাচিত সরকারের ১৮০ দিনের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল অন্তত ১৫০০ গবাদিপশুকে বীমার আওতায় আনা। তবে এলডিডিপি’র এই বিশেষ কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে ২৩২৫টি ডেইরি ক্যাটলকে বীমার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মোট ৪৮০০ গবাদিপশুকে এই বীমা সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ বীমা নীতিমালা ২০২৫’ চূড়ান্ত অনুমোদনের পর বাংলাদেশে ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা উভয়ই বৃদ্ধি পাবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই কর্মসূচির মেয়াদ আগামী ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
জেএইচআর