সংসদ সদস্যদের জন্য ১০ এপ্রিলের মধ্যে বাসা বরাদ্দের ঘোষণা চিফ হুইপের

সংসদ প্রতিবেদক প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকে পূর্ণ গতিশীল করতে এবং সংসদ সদস্যদের (এমপি) দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে আবাসন বণ্টন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে সকল সংসদ সদস্যকে সরকারি আবাসন সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। 

শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হাউজ কমিটির প্রথম বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল সংসদীয় কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ এবং কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম মনি। বৈঠকে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. আবদুল্লাহ তাহেরসহ কমিটির ১১ জন সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, সংসদ সদস্যদের দাপ্তরিক ও সংসদীয় কাজে নিরবচ্ছিন্নভাবে অংশগ্রহণের জন্য তাদের সংসদের কাছাকাছি থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, "আমরা চেষ্টা করছি সকল সদস্যকে সংসদের নিকটবর্তী এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা করতে। আশা করছি আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

চিফ হুইপ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, সংসদ সদস্যরা বরাদ্দকৃত বাসাগুলো নিজেরাই ব্যবহার করবেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা সরকারি আবাসনগুলো ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করবেন, এটাই সঙ্গত এবং আইনানুগ। এটি তাদের কাজের জবাবদিহিতা ও সংসদের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে। এই বিষয়ে আগামী ৩০ মার্চ হাউজ কমিটির আরও একটি ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আবাসন ছাড়াও বৈঠকে সংসদের চলমান অধিবেশনে কারিগরি ত্রুটি, বিশেষ করে শব্দ বা অডিও বিভ্রাট নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। সংসদ চলাকালীন এ ধরনের কারিগরি গোলযোগ সংসদের গাম্ভীর্য ও কার্যবিবরণী নথিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

এই শব্দ বিভ্রাটের কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী সংসদের অডিও ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও ত্রুটিমুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে আজ বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের সরকার দলীয় সভাকক্ষে সংসদীয় দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সভায় বিএনপি সংসদীয় দল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় এই অধ্যাদেশগুলোর বৈধতা প্রদান বা পর্যালোচনার বিষয়টি এই অধিবেশনে অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে যাচ্ছে।

বৈঠকে সংসদ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংসদ মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন এবং জরুরি সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরুর পর সংসদীয় কমিটিগুলোর এই সক্রিয়তা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ১০ এপ্রিলের মধ্যে আবাসন সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করবে। অডিও বিভ্রাটের মতো কারিগরি সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এই সব মিলিয়ে সংসদ এখন এক ব্যস্ততম সময় পার করছে।

এএন