জেদ্দায় অবতরণ করল ২০২৬ সালের বাংলার প্রথম হজ ফ্লাইট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

শুরু হলো ২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট আজ সফলভাবে সৌদি আরবে পৌঁছেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ ফ্লাইট বিজি-৩০০১ শনিবার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই ফ্লাইটের মাধ্যমে এ বছরের হজ যাত্রার এক পুণ্যময় অধ্যায়ের সূচনা হলো।

ভোরের আলো ফোটার আগেই যখন জেদ্দার আকাশে বিমান বাংলাদেশের চাকা মাটি স্পর্শ করল, তখন থেকেই বিমানবন্দরে এক উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বিমান থেকে নামার পর বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য ছিল বিশেষ রাজকীয় অভ্যর্থনার আয়োজন। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেলওয়ার হোসেন এবং জেদ্দাস্থ কাউন্সিলর (হজ) কামরুল ইসলাম হজযাত্রীদের সরাসরি অভ্যর্থনা জানান।

হজযাত্রীদের সম্মানে বিমানবন্দরের লাউঞ্জকে বিশেষভাবে সজ্জিত করা হয়েছিল। প্রত্যেক হজযাত্রীকে রজনীগন্ধা ও গোলাপ ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে ক্লান্ত হাজিদের সতেজতা ফেরাতে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ ‘রিফ্রেশমেন্ট কিট’ এবং পানীয়। এসময় সৌদি আরবের সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার ছোঁয়া পেয়ে অনেক হজযাত্রীকে আনন্দাশ্রু মুছতে দেখা যায়।

হজযাত্রীদের এই প্রথম দলকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এক বিশাল বহর উপস্থিত ছিল। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত ও কাউন্সিলর (হজ) ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন এবং সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার রুহুল আমিন।

অন্যদিকে, সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জেদ্দা হজ টার্মিনালের হেড অব অপারেশন ইয়াহিয়া রাদি এবং হজযাত্রীদের অভ্যর্থনায় নিয়োজিত সৌদি প্রতিষ্ঠান ‘নুসুক মারহাবার’ ব্যবস্থাপক রায়েদ বাকশাউন উপস্থিত থেকে বাংলাদেশি হাজিদের সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা ও সুবিধা নিশ্চিত করেন।

প্রথম ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে ছিল এক ধরণের স্বর্গীয় প্রশান্তি। রাজধানী ঢাকা থেকে রওয়ানা হওয়া এই কাফেলার সদস্যরা জানান, যাত্রাপথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সেবা এবং জেদ্দায় অবতরণের পর অভ্যর্থনা ছিল অত্যন্ত সন্তোষজনক। একজন বয়স্ক হজযাত্রী বলেন, ‘পবিত্র ভূমিতে পা রাখতেই সব ক্লান্তি ধুয়ে গেছে। আমাদের দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করব।

বিশেষ করে জেদ্দা বিমানবন্দরে অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়া এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের আন্তরিক ব্যবহার ছিল প্রশংসনীয়। এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় ‘রুট টু মক্কা’ উদ্যোগের সফল প্রতিফলন প্রথম ফ্লাইটেই লক্ষ্য করা গেছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। হজযাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস (সাউদিয়া) এবং ফ্লাইনাসও ফ্লাইটে যুক্ত রয়েছে। আজকের উদ্বোধনী ফ্লাইটের সফল অবতরণ পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

হজ মিশন ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মক্কা ও মদিনায় হাজিদের আবাসন, যাতায়াত এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আগেই বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। আজকের প্রথম কাফেলার হাজিদের বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বাসে করে তাঁদের নির্ধারিত আবাসনস্থলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

হজ ইসলামের একটি অন্যতম স্তম্ভ। প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখো মুসলিম আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হজ একটি বড় ধরণের জাতীয় ব্যবস্থাপনার বিষয়। এ বছর ধর্ম মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন এবং সৌদি হজ মিশনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় হজ ক্যাম্প থেকে শুরু করে সৌদি আরবে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট সুশৃঙ্খল দেখা গেছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রথম ফ্লাইটের এই সফল যাত্রা পরবর্তী সকল ফ্লাইটের জন্য একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। সরকার হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়ে কোনো প্রকার আপস না করার নীতি গ্রহণ করেছে।

প্রথম হজ ফ্লাইটের এই পুণ্যময় যাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের মক্কা ও মদিনায় অবস্থান শুরু হলো। জেদ্দায় লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং রাষ্ট্রদূতদের সশরীরে উপস্থিতি হাজিদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামীর দিনগুলোতে সব হজযাত্রী যেন সুস্থভাবে এবং নিরাপদে তাঁদের ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করে স্বদেশে ফিরে আসতে পারেন, সেই শুভকামনাই এখন সারা দেশের মানুষের।

তথ্যসূত্র: বাসস

এএন