বিদ্যুৎ খাতে কুইক রেন্টাল প্রকল্পের আড়ালে সংঘটিত অনিয়ম ও অর্থ পাচারের ঘটনা থেকে দেশের অর্থ পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
দেশে পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে মজুত থাকা গ্যাস দিয়ে আগামী ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব।
রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এ তথ্য দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
লিখিত জবাবে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের আওতায় উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, আইনের ৫ ধারার অধীনে গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ নির্ধারণ করা হতো, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ক্যাপাসিটি চার্জ ও উচ্চমূল্য নির্ধারণের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত আইনটি বাতিল করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে গত ৭ এপ্রিল সেই অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে আগের মতো অনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদনের পথ বন্ধ হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
এম জি