বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ)-এর প্রাথমিক সই সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত এই সই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং ইইউ’র পক্ষে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক) পাওলা পাম্পালনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ইউরোপীয় কমিশনের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ কাজা কাল্লাস।
পিসিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে এটি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর মধ্যে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করবে। চুক্তির আওতায় মানবাধিকার, সুশাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, পরিবহন এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
বিশেষ তাৎপর্য হলো, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে ইইউ’র সঙ্গে পিসিএ স্বাক্ষরের পথে এগিয়ে গেল, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ইইউ বৈঠকের মাধ্যমে। এরপর ঢাকা ও ব্রাসেলসে পাঁচ দফা আলোচনা এবং একাধিক কারিগরি বৈঠকের মাধ্যমে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। সর্বশেষ দফায় আইনি ও বিচার বিভাগীয় সহযোগিতা, মেধাস্বত্ব অধিকার, জ্বালানি, মৎস্য ও জলজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবাধিকার এবং শুল্ক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
চুক্তি সইয়ের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ব্রাসেলসে কাজা কাল্লাস-এর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা, অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রমমান এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণ, অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি (আইপিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
নতুন এই পিসিএ চুক্তিকে উভয় পক্ষই একটি ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্বের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন, যা বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এম জি