সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন একটি বড় ধরনের পুনর্গঠনের পথে যাচ্ছে সরকার। আসন্ন জাতীয় বাজেটকে ঘিরে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো এক ধাপে নয়, বরং তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ১ জুলাই থেকেই প্রথম ধাপ কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগোচ্ছে। এজন্য বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রাথমিক হিসাবও করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কাঠামোর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে মূল বেতন কাঠামোতে। প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। এরপর তৃতীয় ধাপে গিয়ে যুক্ত হবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধার পূর্ণ সমন্বয়।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো বেতন বৃদ্ধির হার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বিদ্যমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত প্রায় ৫০ শতাংশ সমন্বয় আসতে পারে। পরবর্তী অর্থবছরেও একই ধরনের সমন্বয়ের প্রস্তাব রয়েছে, যা দুই বছরের মধ্যে মূল বেতন কাঠামোকে নতুন ভিত্তিতে দাঁড় করাবে।
তবে ভাতা ও সুবিধাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন না করে আগের কাঠামোতে বহাল রাখার চিন্তাও রয়েছে। ২০২৮-২৯ অর্থবছরে এসব ভাতা একসঙ্গে সমন্বয় করে নতুন কাঠামোয় যুক্ত করার সম্ভাবনা আছে।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, নবম পে স্কেলে শুধু প্রশাসন নয়, পুলিশ, শিক্ষক, স্বাস্থ্য, বিচার বিভাগসহ সব সরকারি কর্মচারীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোও এই কাঠামোর আওতায় আসতে পারে- যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি।
নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় তাদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় আছে।
পেনশন ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত সুবিধা বাড়তে পারে। মধ্যম ও উচ্চ স্তরের পেনশনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মধ্যে ব্যবধান কিছুটা পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। ফলে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।
এটি শুধু বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নয়- বরং সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো সুপারিশ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এএন