আদ-দ্বীন হাসপাতালের ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজার এলাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সেখানকার পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের অবকাঠামো ও নির্মাণে বেশ কিছু বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়েছে। 

শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান।

তিনি জানান, হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওই ওয়ার্ডটির ভেতরে বাতাস চলাচলের স্বাভাবিক বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা ছিল না। কৃত্রিম শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এসি সচল থাকলেও, কোনো কারণে এসি বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে ভেন্টিলেশন বা বাতাস বের হওয়ার কোনো পথ রাখা হয়নি। ফলে নবজাতকদের সুরক্ষায় এটি একটি বড় অবহেলা।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বছরের পর বছর ধরে এই স্বনামধন্য হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডটি এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই পরিচালনা করা হচ্ছিল। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মতে, এতগুলো শিশুর আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে ভেতরের এই ত্রুটিপূর্ণ পরিবেশ কোনো প্রভাব ফেলেছিল কিনা, তা জানা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

ডা. জাহিদ রায়হান আরও উল্লেখ করেন, হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসার পরিবেশ শিশুদের শারীরিক অবস্থার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল কিনা, তা তদন্ত প্রতিবেদনে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হবে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সমস্ত চিকিৎসা নথি ও প্রযুক্তিগত ডেটা বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে গঠিত উচ্চপর্যায়ের এই বিশেষ তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আজ শুক্রবার অথবা আগামীকাল শনিবারের (৩০ মে) মধ্যেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এর আগে, গত বুধবার সকালে আদ-দ্বীন হাসপাতালের ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে ছয়টি শিশুর মৃত্যু হয়। একসঙ্গে এতগুলো নবজাতকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

তদন্ত কমিটির প্রাথমিক এই পর্যবেক্ষণ ফাঁসের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এখন সবার নজর রয়েছে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে, যা থেকে জানা যাবে এই ফুটফুটে শিশুগুলোর মৃত্যুর পেছনে আসল অপরাধী কারা ছিল।

এএন