বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ৭ জুন তিন দিনের সরকারি সফরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো যাচ্ছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম বিদেশ সফর।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩ জুন সফরটির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। সফরকালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মস্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন। পাশাপাশি রুশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-রাশিয়া সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। এ ছাড়া জ্বালানি, অর্থনীতি এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হবে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিভিন্ন দিক নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন, জাতিসংঘ সংস্কার এবং বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে। সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় এসব ক্ষেত্রে খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে রাশিয়ার আগ্রহ রয়েছে।
খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তাকে দক্ষ, ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তববাদী কূটনীতিক হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতি বৃদ্ধি এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা শক্তিশালী করার বিষয়ে তার অগ্রাধিকারকে স্বাগত জানানো হয়।
উল্লেখ্য, প্রায় সাত বছর পর বাংলাদেশের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটি প্রথম মস্কো সফর। এর আগে ২০১৯ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন দ্বিপক্ষীয় সফরে রাশিয়া গিয়েছিলেন। পরে ২০২৩ সালে ঢাকায় সফর করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের জন্যই নয়, জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করবে।
এম জি