গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও জোরালো করতে জার্মানি এবং সমগ্র ইউরোপ অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান।
তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি কঠিন রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। জার্মানি ও ইউরোপ বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং দেশটিকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে অত্যন্ত আগ্রহী।’
মঙ্গলবার জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক অফিশিয়াল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হার্টম্যান ও দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ সম্প্রতি তিন দিনের এক বিশেষ সফরে বাংলাদেশে আসেন এবং সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বৈঠক করেন।
জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে এই প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলামের সাথে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষই দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
একইসাথে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের ব্যাপারে তাদের প্রবল আগ্রহের কথা আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরে।
বৈঠকের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও বিশেষভাবে স্থান পায় এবং হার্টম্যান বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দীর্ঘকাল আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সমর্থনের জন্য জার্মানি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, ‘এই ধরনের সফর জার্মানি এবং বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পথ উন্মুক্ত করবে।’
প্রতিনিধিদলটি সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথেও সাক্ষাৎ করে এবং বাণিজ্যমন্ত্রী চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানি বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
জবাবে হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেন।
সফর শেষে জার্মান কর্মকর্তারা বাংলাদেশের পোশাক উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখার জন্য কাশিমপুরে ডিবিএল গ্রুপের টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
এএন