চীন থেকে ২৪টি যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ১২:২০ পিএম

পররাষ্ট্র নীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার। সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের বেইজিং সফরকালে এই সামরিক চুক্তিটি বড় ধরনের গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী আগস্টের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি যুদ্ধবিমানের আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার। এই আলোচনার ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে। বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করে এই ক্রয়ের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করবেন।

সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ ইশতেহারের মাধ্যমে দুই দেশের বর্তমান কৌশলগত সম্পর্ককে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে তিস্তা নদী ব্যারেজ প্রকল্পের যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি মংলা সমুদ্রবন্দরের আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে। এই বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে মংলায় চীনকে একটি বিশেষ ১১০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ।

মংলার এই জমিটি এর আগে ভারতের বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত থাকলেও ঢাকা সম্প্রতি ভারতের সাথে হওয়া ওই চুক্তিটি বাতিল ঘোষণা করেছে। ফলে এটি এখন সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হলো। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই সরকার চট্টগ্রামের একটি এক্সক্লুসিভ চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন দিয়েছে, যেখানে বেইজিং ইতোমধ্যে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য, চীন থেকে বড় ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার এই সম্পর্কের দ্রুত সম্প্রসারণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের নিবিড় নজরদারিতে থাকবে। সম্প্রতি সীমান্তে পুশব্যাক করার চেষ্টা বৃদ্ধি এবং নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার মতো ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষকেরা দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

অতীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বৈদেশিক সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে সবসময় ভারতকে বেছে নিতেন। তবে এর বিপরীতে বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বহু-পাক্ষিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে, যার মূল লক্ষ্য হলো একই সাথে ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো এবং নয়া দিল্লির সাথে সমানভাবে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখা। 

এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি সচল রাখা হয়েছে এবং মস্কোর সাথেও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে, যাতে ব্রিকস জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাকে রাশিয়া পূর্ণ সমর্থন জানায়। তবে ভারতের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন বলেও সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

জেএইচআর