নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাবনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একাধিক নতুন আর্থিক সুবিধা যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের একটি হচ্ছে টিফিন ভাতা। বর্তমানে মাসিক ২০০ টাকা টিফিন ভাতা দেওয়া হলেও নতুন পে-স্কেলে এটি পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা কাঠামোয় এটিকে গত এক দশকের অন্যতম বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও বাজার পরিস্থিতিতে ২০০ টাকা টিফিন ভাতা বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ কারণেই নতুন বেতন কাঠামোয় মাসিক ১ হাজার টাকা টিফিন ভাতা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের বিপুলসংখ্যক কর্মচারীর দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহে কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে পরিবর্তন শুধু টিফিন ভাতায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। নবম জাতীয় বেতন স্কেলের চূড়ান্ত খসড়ায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ রয়েছে।
সর্বনিম্ন মূল বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে।
বৈশাখি ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ
নতুন খসড়ায় বৈশাখি উৎসব ভাতা বর্তমান মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উৎসবভিত্তিক আর্থিক সহায়তা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাসিক শিক্ষা ভাতা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষাব্যয় নির্বাহে সহায়তার জন্য মাসিক নির্ধারিত ২ হাজার টাকা শিক্ষা ভাতা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যবীমা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের চিকিৎসাসেবার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ সরকারি স্বাস্থ্যবীমা (হেলথ ইন্সুরেন্স) চালুর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য বিশেষ ভাতা
প্রস্তাবিত সুবিধার মধ্যে প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবকদের জন্যও একটি বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল বেতনের বাইরে অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা বিশেষ চাইল্ড কেয়ার ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় কিছুটা সহায়ক হবে।
এএন