জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪ লাখ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মধ্যেই গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব আহরণে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, আগামী অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী হলেও তা অর্জন সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস করে। করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে করব্যবস্থাকে করদাতাবান্ধব, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার পৃথকীকরণ, কর ব্যবস্থার অটোমেশন, কর ফাঁকি প্রতিরোধ এবং বিনিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ফ্ল্যাট রেটে ভ্যাট চালুর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় কাঁচা বাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকানকে সম্পূর্ণভাবে ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা হবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং কৃষি-শিল্পসহ উৎপাদনশীল খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমানো, সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়ন, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প, কৃষি, আইসিটি ও সেবাখাত সম্প্রসারণ এবং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিকে মূলধারায় আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তার ভাষ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা হবে।
বাজেট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়িয়ে এবং টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। এ লক্ষ্যে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বাজেটের ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ উন্নয়ন ব্যয় থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয়ের অংশ ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ আরও বাড়ানো এবং পরিচালন ব্যয় ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার নীতি অনুসরণ করবে সরকার।
এম জি