খলিলুর রহমান

বিরোধীদলের প্রস্তাব মানলে বিদেশের মাটি থেকে জাতীয় পতাকা নামাতে হবে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদলের এক টাকার প্রতীকী ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, যদি বিরোধীদলের প্রস্তাব অনুযায়ী বাজেট এক টাকায় নামিয়ে আনা হয়, তাহলে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন ধরনের সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না, যার ফলে জাতিসংঘে দেশের সদস্যপদও স্থগিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল-সবুজের জাতীয় পতাকাও নামিয়ে ফেলতে হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট এবং এ-সংক্রান্ত ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

এর আগে বিরোধীদলের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিগত কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে প্রতীকীভাবে মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এক টাকায় নির্ধারণের ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে সেই প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়।

ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এক হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি সাধারণ ব্যয় নয়; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার জন্য একটি কৌশলগত বিনিয়োগ।

ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ব্যয়ও তুলনামূলক কম। তিনি জানান, ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

এএন